
Khulna Division Tourism Directory
খুলনা বিভাগ পর্যটন ডিরেক্টরি: ম্যানগ্রোভ অরণ্য সুন্দরবন, ইউনেস্কো হেরিটেজ ষাট গম্বুজ মসজিদ, লালন সাঁইজির মাজার, ফুলের রাজধানী গদখালী ও মুজিবনগর স্মৃতিসৌধসহ ১০টি জেলার মোট ১০৪টি দর্শনীয় স্থান, বিখ্যাত খাবার ও যাতায়াতের পূর্ণাঙ্গ গাইড নিচে সাজানো হলো।
🐅 ১. খুলনা জেলা
১৩টি দর্শনীয় স্থান
সুন্দরবন ও কটকা সমুদ্রসৈকত (Katka Beach)
বিশ্বের বৃহত্তম শ্বাসমূলীয় বনভূমি, বাঘ ও হরিণের বিচরণক্ষেত্র এবং নির্জন সৈকত।
করমজল পর্যটন কেন্দ্র (Karamjal)
পশুর নদীর তীরে কুমির ও হরিণ প্রজনন কেন্দ্র এবং কাঠের ট্রেইল দিয়ে বনাঞ্চল দর্শন।
রূপসা নদী ও রূপসা সেতু (Khan Jahan Ali Bridge)
নদীর ওপর সুবিশাল সেতু; বিকেলে খোলা হাওয়া উপভোগ ও নৌভ্রমণের চমৎকার পরিবেশ।
রবীন্দ্রনাথের শ্বশুরবাড়ি (দক্ষিণডিহি, ফুলতলা)
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত মৃণালিনী দেবীর পৈতৃক বসতভিটা।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ভৈরব নদী (ফুলবাড়ী ঘাট), জাহানাবাদ পার্ক (ক্যান্টনমেন্ট), এগারো শিব মন্দির (রাজঘাট), খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর, জাতিসংঘ পার্ক (UN Park), বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনের মাজার এবং বনবিলাস চিড়িয়াখানা।
🚆 যাতায়াত: ঢাকা থেকে সুন্দরবন এক্সপ্রেসে অথবা পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি বাসে ৪–৫ ঘণ্টা।
🍲 বিখ্যাত খাবার: চুইঝাল দিয়ে খাসির মাংসের ভুনা ও নদীর গলদা চিংড়ি।
🕌 ২. বাগেরহাট জেলা
১১টি দর্শনীয় স্থান
ষাট গম্বুজ মসজিদ (Sixty-Domed Mosque)
ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট; হযরত খান জাহান আলী (রহ.) নির্মিত ৮১ গম্বুজের স্থাপত্য।
খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার ও দিঘি
পবিত্র মাজার শরিফ এবং সংলগ্ন ঐতিহাসিক দিঘির মিঠাপানির কুমির।
নয় গম্বুজ ও দশ গম্বুজ মসজিদ
সুলতানি আমলের অনিন্দ্যসুন্দর পোড়ামাটির অলঙ্করণ সম্বলিত ঐতিহাসিক মসজিদ।
অযোধ্যা মঠ (কোদলা মঠ)
সপ্তদশ শতকের সূক্ষ্ম টেরাকোটা নকশায় সাজানো চোখজুড়ানো পিরামিড সদৃশ মঠ।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: সিংগাইর মসজিদ, জিন্দাপীর মসজিদ, বাগেহাট জাদুঘর, রণবিজয়পুর মসজিদ এবং চুনাখোলা মসজিদ।
🚌 যাতায়াত: ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু ও মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে বাসে ৩.৫–৪ ঘণ্টা।
🍲 বিখ্যাত খাবার: সুন্দরবনের খাঁটি প্রাকৃতিক মধু ও নারিকেলের তৈরি মিষ্টি।
🌸 ৩. যশোর জেলা
১৩টি দর্শনীয় স্থান
ফুলের রাজধানী গদখালী (Gadkhali)
শত শত একর জুড়ে গোলাপ, জারবেরা ও রজনীগন্ধার বাগান; দেশের বৃহত্তম ফুলের হাট।
মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাড়ি (সাগরদাঁড়ি)
কপোতাক্ষ নদের তীরে মহাকবির স্মৃতিবিজড়িত পৈতৃক বসতভিটা ও জাদুঘর।
মির্জানগর হাম্মামখানা (ত্রিমোহিনী)
মুঘল সুবেদার আমলের প্রাচীন ঐতিহাসিক সুরক্ষিত স্নানাগার।
ভরত ভায়না (কেশবপুর)
ভদ্রা নদীর তীরে গুপ্ত যুগের বিশাল আকৃতির ঐতিহাসিক বৌদ্ধ স্তূপের ধ্বংসাবশেষ।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: হাজী মুহাম্মদ মহসীনের ইমামবাড়া, যশোর রাজবাড়ি, চাঁচড়া শিব মন্দির, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদের সমাধি, বিনোদিয়া ফ্যামিলি পার্ক (ক্যান্টনমেন্ট), কেশবপুরের হনুমান গ্রাম, পোড়াখালী বাওড় (অভয়নগর), ভাটপাড়া জগন্নাথধাম এবং কালেক্টরেট ভবন।
🚆 যাতায়াত: বেনাপোল এক্সপ্রেসে অথবা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে মাত্র ৩৫ মিনিটে যশোর।
🍲 বিখ্যাত খাবার: যশোরের খাঁটি খেজুর গুড়ের সন্দেশ ও নলেন গুড়ের প্যাঁড়া।
🌾 ৪. চুয়াডাঙ্গা জেলা
১০টি দর্শনীয় স্থান
দত্তনগর কৃষি খামার (মহেশপুর সীমান্ত)
এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম সুপরিকল্পিত সরকারি বীজ উৎপাদন ও কৃষি খামার।
নাটুদহ আট কবর (জগন্নাথপুর)
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ আট বীর মুক্তিযোদ্ধার ঐতিহাসিক সমাধিসৌধ।
কাশীপুর জমিদার বাড়ি (জীবননগর)
শতবর্ষের পুরোনো প্রাচীন জমিদারি অট্টালিকা ও কাচারি প্রাঙ্গণ।
ডিসি ইকো পার্ক (দামুড়হুদা)
মাথাভাঙ্গা নদীর বাঁকে ছায়ানিবিড় বিনোদন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: পুলিশ পার্ক, শিশু স্বর্গ, চুয়াডাঙ্গা বড় মসজিদ, দোয়া বাওড় (রায়পুর), ঠাকুরপুর জামে মসজিদ এবং তিয়রবিলা বাদশাহী মসজিদ।
🚆 যাতায়াত: ঢাকা থেকে চিত্রা এক্সপ্রেস বা সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি চুয়াডাঙ্গা।
🍲 বিখ্যাত খাবার: চুয়াডাঙ্গার সুস্বাদু মিষ্টি পান, সরপুরিয়া ও খাঁটি ক্ষীরের মিষ্টি।
🏛️ ৫. ঝিনাইদহ জেলা
১০টি দর্শনীয় স্থান
বারোবাজার প্রত্নতাত্ত্বিক মসজিদ নগরী
সুলতানি আমলের গলাকাটা মসজিদ, জোড় বাংলা মসজিদসহ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থাপত্য।
নলডাঙ্গা রাজবাড়ি রিসোর্ট (কালীগঞ্জ)
প্রাচীন রাজপ্রাসাদের আদলে গড়া মনোরম ঐতিহাসিক ও বিনোদন কমপ্লেক্স।
মিয়া দালান (ঝিনাইদহ সদর)
নবগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত মুরলীদহ এলাকার ঐতিহাসিক প্রাচীন প্রাসাদ।
ঢোল সমুদ্র দিঘি ও শৈলকুপা জমিদার বাড়ি
ঐতিহাসিক সুবিশাল প্রাচীন দিঘি এবং আবাইপুরের জমিদারি ধ্বংসাবশেষ।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট, কে পি বসুর বাড়ি, কপোতাক্ষ নদের তীরের খালিশপুর নীলকুঠি ভবন।
🚌 যাতায়াত: ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বাসে ৪–৪.৫ ঘণ্টা; ট্রেনে কোটচাঁদপুর স্টেশন।
🍲 বিখ্যাত খাবার: ঝিনাইদহের মহিষের দুধের ছানা এবং খাঁটি কাঁচাগোল্লা।
🪕 ৬. কুষ্টিয়া জেলা
১১টি দর্শনীয় স্থান
রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি (শিলাইদহ)
পদ্মার কোল ঘেঁষে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ত্রিতল ঐতিহাসিক কুঠিবাড়ি ও জাদুঘর।
লালন শাহের মাজার (ছেঁউড়িয়া)
বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের সমাধিসৌধ ও আধ্যাত্মিক সাধনার ধাম।
মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা (লাহিনীপাড়া)
‘বিষাদ সিন্ধু’ রচয়িতা মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতি সংগ্রহশালা।
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালন শাহ সেতু (ভেড়ামারা)
পদ্মা নদীর ওপর শতবর্ষী ঐতিহাসিক রেলসেতু ও চার লেনের সড়কসেতু।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, ঝাউদিয়া শাহী মসজিদ, মোহিনী মিল, রেনউইক বাঁধ, টেগোর লজ (মিলপাড়া) এবং পরিমল থিয়েটার।
🚆 যাতায়াত: ঢাকা থেকে ট্রেনে পোড়াদহ জংশনে নেমে সিএনজি; অথবা বাসে ৪–৫ ঘণ্টা।
🍲 বিখ্যাত খাবার: আসল কুষ্টিয়ার স্পেশাল তিলের খাজা এবং কুলফি মালাই।
🎪 ৭. মাগুরা জেলা
৬টি দর্শনীয় স্থান
রাজা সীতারাম রায়ের প্রাসাদ দুর্গ (মহম্মদপুর)
মুঘল আমলের বিদ্রোহী বীর রাজা সীতারাম রায়ের ঐতিহাসিক মাটির গড় ও প্রাসাদ।
কবি কাজী কাদের নেওয়াজের বাড়ি (শ্রীপুর)
‘শিক্ষকের মর্যাদা’ কবিতার অমর রচয়িতা কবি কাদের নেওয়াজের বসতভিটা।
চণ্ডীদাস ও রজকিনীর ঐতিহাসিক ঘাট (শালিখা)
মধ্যযুগীয় কবি চণ্ডীদাস ও রজকিনীর অমর প্রেমের স্মৃতিবিজড়িত নদীঘাট।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: শ্রীপুর জমিদার বাড়ি, বিরাট রাজার বাড়ি এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধেশ্বরী মঠ।
🚌 যাতায়াত: ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে মাগুরাগামী সরাসরি বাসে ৩.৫ ঘণ্টা।
🍲 বিখ্যাত খাবার: খাঁটি ক্ষীরের চমচম ও খেজুর রসে তৈরি মাগুরার পিঠা।
🎨 ৮. নড়াইল জেলা
৯টি দর্শনীয় স্থান
এস এম সুলতান কমপ্লেক্স ও শিশুস্বর্গ
চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের চিত্রশালা, সমাধি এবং চিত্রা নদীর তীরের শিশুস্বর্গ।
অরুণিমা কান্ট্রিসাইড অ্যান্ড গলফ রিসোর্ট (কালিয়া)
পাখির অভয়ারণ্য সম্বলিত আন্তর্জাতিক মানের মনোরম ইকো রিসোর্ট।
চিত্রা রিসোর্ট ও বাঁধাঘাট
চিত্রা নদীর শান্ত বাঁকে চমৎকার কটেজ ও শহরের ঐতিহ্যবাহী বাঁধাঘাট।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখ কমপ্লেক্স (মোহাম্মদনগর), নীহাররঞ্জন গুপ্তের বাড়ি, লোহাগড়া জোড় বাংলা মন্দির, নিরিবিলি পিকনিক স্পট এবং স্বপ্নবীথি পিকনিক স্পট।
🚌 যাতায়াত: পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে বাসে মাত্র ৩–৩.৫ ঘণ্টার পথ।
🍲 বিখ্যাত খাবার: নড়াইলের বিখ্যাত খেজুর গুড়ের সন্দেশ ও চিত্রা নদীর বড় মাছ।
🇧🇩 ৯. মেহেরপুর জেলা
৮টি দর্শনীয় স্থান
মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ ও আম্রকানন
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথগ্রহণের ঐতিহাসিক স্থান।
আমঝুপি ও ভাটপাড়া নীলকুঠি
ব্রিটিশ আমলে কাজলা ও ভৈরব নদের তীরে গড়ে ওঠা অত্যাচারী নীলকরদের কুঠিবাড়ি।
আমদহ গ্রামের প্রাচীন স্থাপত্য
গুপ্ত আমলের ঐতিহাসিক রাজধানী ও প্রাচীন মাটির নিচের দুর্গ প্রাচীর।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: মেহেরপুর শহীদ স্মৃতিসৌধ, বল্লভপুর চার্চ, ভবানন্দপুর মন্দির এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির।
🚌 যাতায়াত: ঢাকা গাবতলী থেকে সরাসরি মেহেরপুরগামী বাসে ৫ ঘণ্টা।
🍲 বিখ্যাত খাবার: মেহেরপুরের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি সাবিত্রী ও রসকদম্ব।
🌲 ১০. সাতক্ষীরা জেলা
১০টি দর্শনীয় স্থান
মান্দারবাড়িয়া সমুদ্রসৈকত (শ্যামনগর)
সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে ওঠা হরিণ ও লাল কাঁকড়ার বিচ।
যশোড়েশ্বরী কালী মন্দির ও প্রতাপাদিত্যের রাজবাড়ি
ঈশ্বরীপুরে অবস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ৫১ সতীপীঠ ও মোগলপূর্ব দুর্গ।
তেঁতুলিয়া শাহী জামে মসজিদ (তালা)
খান বাহাদুর সালামতুল্লাহ কর্তৃক মুঘল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত ছয় গম্বুজের মসজিদ।
নলতা রওজা শরীফ (কালীগঞ্জ)
পীর খানবাহাদুর আহছানউল্লা (রহ.)-এর পুণ্যভূমি ও সুবিশাল দরবার কমপ্লেক্স।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: দেবহাটা নীলকুঠি, কলারোয়া প্রাচীন বৌদ্ধ মঠ, লাবসা, মোজাফফর গার্ডেন ও বনলতা বাগান, ছাত্তার মোড়লের স্বপ্নবাড়ি এবং কপোতাক্ষ নদের পাড়।
🚌 যাতায়াত: ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি এসি/নন-এসি বাসে ৫–৬ ঘণ্টা।
🍲 বিখ্যাত খাবার: আসল সাতক্ষীরার খাঁটি ক্ষীর সন্দেশ এবং বাগদা চিংড়ি।
🔗 সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ নির্দেশিকাসমূহ:
সুন্দরবনের জাহাজ ভ্রমণ ও খরচের পূর্ণাঙ্গ গাইড দেখতে পড়ুন সুন্দরবন ভ্রমণ প্যাকেজ ও বাজেট প্ল্যান এবং সব জেলার আসল মিষ্টির দোকানের তথ্য জানতে ভিজিট করুন কোন জেলার কোন খাবার বিখ্যাত ও আসল দোকান।
Tagged Division