Barisal Tourist Spot

Barisal Division Tourism Directory

বরিশাল বিভাগ পর্যটন ডিরেক্টরি: নদীমাতৃক বাংলার ভেনিস, সাগরকন্যা কুয়াকাটা, ভাসমান পেয়ারা হাট, লাল শাপলার বিল ও দ্বীপ চরবেষ্টিত ৬টি জেলার মোট ৫৭টি দর্শনীয় স্থান, আঞ্চলিক খাবার ও যাতায়াতের পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা নিচে সাজানো হলো।

🛶 ১. বরিশাল জেলা

১২টি দর্শনীয় স্থান
বায়তুল আমান জামে মসজিদ (গুঠিয়া মসজিদ) উজিরপুর-বানারীপাড়ায় অবস্থিত সুউচ্চ মিনার ও বর্ণিল আলোকসজ্জার আধুনিক স্থাপত্যের মসজিদ।
সাতলা লাল শাপলার বিল (Shapla Village) উজিরপুরের সাতলায় মাইলের পর মাইল বিস্তৃত লাল শাপলার স্বর্গরাজ্য ও ভোরের নৌভ্রমণ।
দুর্গাসাগর দিঘি (Durgasagar Dighi, Babuganj) দক্ষিণবঙ্গের বৃহত্তম ঐতিহাসিক দিঘি; চারপাশের সুউচ্চ পাড় ও শীতের অতিথি পাখির মেলা।
অক্সফোর্ড মিশন চার্চ (Oxford Mission Church) বগুড়া রোডে অবস্থিত ১৯০৩ সালের গ্রিক স্থাপত্যশৈলীতে লাল ইটের অনন্য সুন্দর ঐতিহাসিক গির্জা।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: উলানিয়া জমিদার বাড়ি, লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি, কলসকাঠী জমিদার বাড়ি, মিয়াবাড়ী জামে মসজিদ, কসবা মসজিদ (গৌরনদী), শঙ্কর মঠ, বিবি পুকুর পাড় এবং কীর্তনখোলা নদীকূল।
🚢 যাতায়াত: পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে বাসে ৩–৩.৫ ঘণ্টা; সদরঘাট থেকে আধুনিক বিলাসবহুল লঞ্চে রাতভর ভ্রমণ।
🍲 বিখ্যাত খাবার: আসল বরিশালের রসমালাই, বাকরখানি এবং কীর্তনখোলার তাজা ইলিশ।

🌅 ২. পটুয়াখালী জেলা

১৩টি দর্শনীয় স্থান
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ও কুয়াকাটার কুয়া একই স্থান থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার আন্তর্জাতিক সৈকত এবং ঐতিহাসিক প্রাচীন কূপ।
লেবুর চর ও লাল কাঁকড়ার দ্বীপ (Crab Island) তিন নদীর মোহনা, ঝাউবন, সূর্যাস্তের অসাধারণ রূপ এবং হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার দল।
সীমা বৌদ্ধ বিহার ও কুয়াকাটা রাখাইন পল্লী অষ্টধাতুর বিশালাকার বুদ্ধমূর্তি, রাখাইনদের কাঠের বাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প।
পায়রা সমুদ্রবন্দর ও সোনার চর দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর এবং গভীর সাগরের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক সৈকত ও বনাঞ্চল।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: কানাই বালাই দিঘি, ফাতড়ার বন (ম্যানগ্রোভ জঙ্গল), শুঁটকি পল্লী, কুয়াকাটা বৌদ্ধ মন্দির এবং মজিদবাড়িয়া প্রাচীন মসজিদ।
🚌 যাতায়াত: ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু ও পায়রা সেতু হয়ে সরাসরি বাসে ৫–৬ ঘণ্টায় কুয়াকাটা।
🍲 বিখ্যাত খাবার: তাজা কাঁকড়া ফ্রাই, রূপচাঁদা ফ্রাই এবং মহিষের দুধের ঘন দই।

🏝️ ৩. ভোলা জেলা

১১টি দর্শনীয় স্থান
চর কুকরি মুকরি ও ওয়াচ টাওয়ার হাজার হাজার হরিণের অভয়ারণ্য, ম্যানগ্রোভ বন এবং চরফ্যাশনের সুউচ্চ জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার।
মনপুরা দ্বীপ (Manpura Island) মেঘনা নদী ও সাগরের মোহনায় অবস্থিত সবুজে ঘেরা নির্জন দ্বীপ ও চরের রূপ।
তারুয়া সমুদ্রসৈকত ও ঢাল চর সাদা বালুর নির্জন প্রাকৃতিক সৈকত, ঝাউবন এবং বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ।
বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল জাদুঘর (আলীনগর) মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালের স্মৃতিবিজড়িত সংগ্রহশালা।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: মানিক মিয়ার বাড়ি, কুতুবা মিয়ার বাড়ি, দেউলা তালুকদার বাড়ি, কালা রায় জমিদার বাড়ি এবং দুদুমিয়া মার্কেট।
🚢 যাতায়াত: ঢাকার সদরঘাট থেকে বিলাসবহুল আধুনিক লঞ্চে ভোলা সদর বা চরফ্যাশন।
🍲 বিখ্যাত খাবার: আসল ভোলার মাটির হাঁড়ির খাঁটি মহিষের কাঁচা দুধের দই।

🍐 ৪. পিরোজপুর জেলা

১০টি দর্শনীয় স্থান
কুড়িয়ানা ভাসমান পেয়ারার হাট ও স্বরূপকাঠি পেয়ারা বাগান খালে খালে নৌকায় জমে ওঠা এশিয়ার বৃহত্তম ভাসমান পাইকারি পেয়ারার বাজার।
আটঘর আমড়া বাগান স্বরূপকাঠির খালের পাড়ে পাড়ে অবস্থিত সুমিষ্ট আমড়ার বিস্তীর্ণ ফলন ও বাজার।
রায়েরকাঠি জমিদার বাড়ি ১৬৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রায় ৪০০ বছরের প্রাচীন জমিদারি দুর্গ, কাচারি ও মন্দির কমপ্লেক্স।
মমিন মসজিদ (মঠবাড়িয়া) কোনো লোহার পেরেক ছাড়াই সম্পূর্ণ কাঠে খোদাই করে নির্মিত শতবর্ষী প্রাচীন মসজিদ।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: সারেংকাঠি পিকনিক স্পট, রিভারভিউ ইকোপার্ক, ডিসি পার্ক, কবি আহসান হাবীবের বাড়ি এবং পাড়েরহাট জমিদার বাড়ি।
🚌 যাতায়াত: ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বাসে ৩.৫–৪ ঘণ্টা; অথবা লঞ্চে হুলারহাট ঘাট।
🍲 বিখ্যাত খাবার: পিরোজপুরের ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লা এবং কুড়িয়ানার মিষ্টি পেয়ারা।

🌲 ৫. বরগুনা জেলা

৬টি দর্শনীয় স্থান
হরিণঘাটা বন ও ইকোপার্ক (পাথরঘাটা) পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনায় অবস্থিত শ্বাসমূলীয় বন; কাঠের ট্রেইলে হরিণ দর্শন।
লালদিয়া বন ও সমুদ্রসৈকত বনের সীমানা ঘেঁষে জেগে ওঠা শান্ত নির্জন সৈকত ও লাল কাঁকড়ার অবাধ বিচরণ।
তালতলী বৌদ্ধ মন্দির ও রাখাইন পল্লী রাখাইনদের প্রাচীন সংস্কৃতি, কাঠের তৈরি মন্দির এবং স্থানীয় তাঁতের কাপড়।
বিবিচিনি শাহী মসজিদ মোঘল সম্রাট শাহজাহানের আমলে নির্মিত এক গম্বুজবিশিষ্ট ঐতিহাসিক টিলার মসজিদ।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: কুমিরমারা বনভূমি এবং বরগুনা সংলগ্ন উপকূলীয় চর।
🚌 যাতায়াত: ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বাসে ৫ ঘণ্টা; অথবা সদরঘাট থেকে বরগুনার লঞ্চে।
🍲 বিখ্যাত খাবার: বিষখালী নদীর রূপচাঁদা ও সামুদ্রিক তাজা মাছের পদ।

🛶 ৬. ঝালকাঠি জেলা

৫টি দর্শনীয় স্থান
ভীমবুলী ভাসমান পেয়ারার হাট ও বাগান খাল ও নদীর খাঁজে ক্যানেল ক্রুজিং করে নৌকায় বসে আমড়া ও পেয়ারা কেনার আন্তর্জাতিক আকর্ষণ।
সাতুরিয়া জমিদার বাড়ি ঐতিহাসিক জমিদারি অট্টালিকা, প্রাচীর ও শতবর্ষের পুরোনো কাচারি ভবন।
সুজাবাদ কেল্লা (Sujabad Fort) মুঘল সুবেদার শাহ সুজার আমলে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যু দমনে নির্মিত প্রাচীন নদী দুর্গ।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: শিববাড়ি মন্দির ও ঠাকুর বাড়ি (সদর), বৈষ্ণব মল্লিকের দিঘি এবং গালুয়া পাকা মসজিদ।
🚌 যাতায়াত: ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে বাসে ৩.৫ ঘণ্টা; অথবা বরিশাল হয়ে লোকাল বাসে ৪০ মিনিট।
🍲 বিখ্যাত খাবার: আসল ঝালকাঠির ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লা এবং মিষ্টি আমড়া।
🔗 সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ নির্দেশিকাসমূহ:

কুয়াকাটা সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত দর্শন ও বাজেট হোটেলের গাইড পড়তে দেখুন বাংলাদেশের সেরা পর্যটন স্থান নির্দেশিকা এবং ভোলার মহিষের দই ও সব জেলার আসল মিষ্টির দোকানের বিস্তারিত জানতে পড়ুন কোন জেলার কোন খাবার বিখ্যাত ও আসল দোকান।