mymensingh tourist place

Mymensingh Division Tourism Directory​

ময়মনসিংহ বিভাগ পর্যটন ডিরেক্টরি: গারো পাহাড়ের সবুজ উপত্যকা, বিজয়পুরের স্বচ্ছ চিনামাটির হ্রদ, ব্রহ্মপুত্র নদ, ঐতিহাসিক রাজপ্রাসাদ ও হাওরাঞ্চলবেষ্টিত ৪টি জেলার মোট ৬৯টি দর্শনীয় স্থান, আঞ্চলিক খাবার ও যাতায়াতের পূর্ণাঙ্গ গাইড নিচে সাজানো হলো।

🏛️ ১. ময়মনসিংহ জেলা

২৪টি দর্শনীয় স্থান
শশী লজ ও আলেকজান্ডার ক্যাসেল (লোহার কুঠি) মার্বেল পাথরের ভেনাস ভাস্কর্য সংবলিত রাজপ্রাসাদ এবং কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ও লর্ড কার্জনের পদধন্য ঐতিহাসিক ক্যাসেল।
মুক্তাগাছা ও গৌরীপুর রাজবাড়ি ১৬ আনি জমিদারদের ঘূর্ণায়মান নাটমঞ্চ ও কারুকার্যময় প্রাচীন জমিদারি অট্টালিকা।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বোটানিক্যাল গার্ডেন ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে দেশের বৃহত্তম সবুজ কৃষি ক্যাম্পাস, আম বাগান ও বিরল উদ্ভিদ সম্ভার।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ও পার্ক নদের তীরের মনোরম ছায়াতলে শিল্পাচার্যের আঁকা বিখ্যাত চিত্রকর্মের মূল সংগ্রহশালা।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ, ময়মনসিংহ জাদুঘর, সার্কিট হাউস ও পার্ক, সিলভার প্যালেস, বিপিন পার্ক, রামগোপালপুর জমিদার বাড়ি, ময়মনসিংহ টাউন হল, দুর্গাবাড়ী, কেল্লা তাজপুর, আলাদিনস পার্ক, তেপান্তর শুটিং স্পট, ভালুকার কুমির খামার (Crocodile Farm), চিনামাটির টিলা, কালুশাহ কালশার দিঘি, কবি নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র (ত্রিশাল), শহীদ আব্দুল জব্বার জাদুঘর এবং রাজ রাজেশ্বরী ওয়াটার ওয়ার্কস।
🚆 যাতায়াত: ঢাকা থেকে তিস্তা, যমুনা বা ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে ৩–৩.৫ ঘণ্টা; মহাখালী থেকে বাসে ৩ ঘণ্টা।
🍲 বিখ্যাত খাবার: মুক্তাগাছার আসল গোপাল পালের মণ্ডা এবং মালেকের স্পেশাল মালাই চা।

⛰️ ২. নেত্রকোণা জেলা

১২টি দর্শনীয় স্থান
বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড় ও নীল লেক (Durgapur) সাদা ও গোলাপি মাটির পাহাড় কেটে তৈরি স্বচ্ছ নীলাভ পানির অপরূপ পাহাড়ি হ্রদ।
সোমেশ্বরী নদী ও রানীখং চার্চ স্বচ্ছ জলধারা, পাহাড়ি বালুচর এবং টিলার ওপর শতবর্ষী সেন্ট জোসেফস ক্যাথলিক গির্জা।
বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি গারো ও হাজং জনগোষ্ঠীর সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাচীন জীবনযাত্রার স্মারক কেন্দ্র।
ডিঙ্গাপোতা ও চরহাইজদা হাওর (Mohanganj) বর্ষাকালে সাগরের মতো বিস্তৃত নীল জলসমুদ্র; ট্রলারে হাওর ভ্রমণ ও সূর্যাস্ত দর্শন।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: কমরেড মণি সিংহ স্মৃতি জাদুঘর ও স্মৃতিস্তম্ভ, টঙ্ক আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত কুমুদিনী স্তম্ভ, ঐতিহাসিক কমলা রানী দিঘি, মগড়া নদী (মদন), কংস নদী, নিঝুম পার্ক এবং সীমান্তবর্তী পাঁচগাঁও।
🚆 যাতায়াত: ঢাকা থেকে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে নেত্রকোণা সদর; বিরিশিরির জন্য মহাখালী থেকে সরাসরি বাস।
🍲 বিখ্যাত খাবার: আসল নেত্রকোণার বিখ্যাত বালিশ মিষ্টি এবং হাওরের তাজা মাছ।

🌲 ৩. শেরপুর জেলা

২১টি দর্শনীয় স্থান
গজনী অবকাশ পর্যটন কেন্দ্র (Jhinigati) গারো পাহাড়ের পাদদেশে ঝুলন্ত সেতু, ওয়াচ টাওয়ার, ডাইনোসর টানেল ও আদিবাসী পল্লী।
মধুটিলা ইকোপার্ক ও রাবার ড্যাম (Nalitabari) শালবনের গভীরে লেকে প্যাডেল বোটিং, ওয়াচ টাওয়ার এবং ভোগাই নদীর রাবার ড্যাম।
পানিহাটা-তারানি পাহাড় ও দিঘি ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা সবুজ সুউচ্চ পাহাড়, পাহাড়ি ঝিরিপথ ও নিবিড় শান্ত প্রকৃতি।
পৌনে তিনআনি ও নয়আনি জমিদার বাড়ি ঐতিহাসিক জমিদারি অট্টালিকা, নাটমন্দির, রঙ্গমহল ও প্রাচীন সিংহদ্বার তোরণ।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: গড়জরিপা বারোদুয়ারী মসজিদ, মায়সাহেবা জামে মসজিদ, ঘাগড়া খান বাড়ি জামে মসজিদ, পাঠ লস্কর বাড়ি মসজিদ (১৮০৮ খ্রি.), আড়াই আনি জমিদার বাড়ি, বারমারী সাধু লিও চার্চ ও মরিয়মনগর গির্জা, রাজা পাহাড় ও বাবলাকোনা, নয়াবাড়ি টিলা, গোপীনাথ ও অন্নপূর্ণা মন্দির, রঘুনাথ জিউ মন্দির, নয়আনি বাজার নাথ মন্দির, সুতানাল দিঘি এবং জিকে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।
🚌 যাতায়াত: ঢাকার মহাখালী থেকে সরাসরি ড্রিমল্যান্ড বা শেরপুরগামী বাসে ৪–৪.৫ ঘণ্টা।
🍲 বিখ্যাত খাবার: সুগন্ধি তুলশীমালা চালের ভাত/পোলাও এবং শেরপুরের খাঁটি প্যারা সন্দেশ।

🏺 ৪. জামালপুর জেলা

১২টি দর্শনীয় স্থান
লাউচাপড়া পাহাড়িকা বিনোদন কেন্দ্র (Bakshiganj) মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা সবুজ টিলা, ওয়াচ টাওয়ার এবং বনের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা শান্ত পাহাড়ি ছড়া।
যমুনা সার কারখানা ও রিভার জেটি ঘাট (Sarishabari) তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া সার কারখানা ও জগন্নাথগঞ্জ রিভার ঘাট।
ঐতিহাসিক দয়াময়ী মন্দির (Jamalpur Sadar) ১৬৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত সুপ্রাচীন কারুকার্যময় হিন্দু তীর্থস্থান।
বাহাদুরাবাদ ঘাট (Islampur) যমুনা নদীর বুকে অবস্থিত একসময়কার ঐতিহাসিক স্টিমার ও ট্রেন ফেরিঘাট এবং চরের সূর্যাস্ত।
অন্যান্য দর্শনীয় স্থান: বকশীগঞ্জ বাণিজ্যিক কেন্দ্র, যমুনা সিটি পার্ক (পোগলদিঘা), লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্ক (বেলটিয়া), তরফদার খামারবাড়ি, চন্দ্রার দিঘীর পাড় ও ইন্দিরা, বসপাড়া গ্রামীণ ব্যাংক এবং মাদারগঞ্জ খরকা বিল ও হাইওয়ে রোড।
🚆 যাতায়াত: ঢাকা থেকে তিস্তা বা ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে ৩.৫–৪ ঘণ্টা; মহাখালী থেকে বাস।
🍲 বিখ্যাত খাবার: মেলান্দহের সুস্বাদু মিল্লতের ছানার মিষ্টি এবং পোড়ামাটির সরার ক্ষীর।
🔗 সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ নির্দেশিকাসমূহ:

সুসং দুর্গাপুর বিরিশিরি ট্রিপের বাজেট ও কটেজের তথ্যের জন্য পড়ুন বাংলাদেশের সেরা পর্যটন স্থান নির্দেশিকা এবং মুক্তাগাছার আসল গোপাল পালের মণ্ডার দোকানসহ সব জেলার খাবারের বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন কোন জেলার কোন খাবার বিখ্যাত ও আসল দোকান।